মেলাতেই সব বই প্রকাশ করার প্রবণতা বন্ধ হোক

দেশের সবকিছু রাজধানীতে কেন্দ্রিভূত করার মতো বই সংক্রান্ত সবকিছু কেন্দ্রিভূত হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসে। মেলার সময় একমাসে প্রকাশিত হয় প্রায় সাড়ে চার হাজার বই। আর বাকি ১১ মাসে বড়জোর সংখ্যাটি ৫০ হতে পারে। উত্সবের আমেজে ভুলে গিয়ে আমরা এই অস্বস্তিকর (এবং কিছুটা অসুস্থও) প্রবণতাটিকে স্থায়ী রূপ দিতে চলেছি।

বই তো নির্দিষ্ট সময়বন্দি হবার কথা নয়। কিন্তু হয়ে গেছে। একবারও কি আমরা ভেবে দেখেছি, এই একমাসে সাড়ে ৪ হাজার বইকে আমরা কীভাবে পরিচিত করাতে পারব পাঠকের কাছে? আদৌ কি তা করা সম্ভব? কয়টা বইয়ের খবর পাঠক জানতে পারে? পত্র-পত্রিকাগুলো এই মাসে বইয়ের জন্য আলাদা জায়গা বরাদ্দ করে। ইলেকট্রনিক মিডিয়া বইমেলার সময় বই এবং লেখক পরিচিতির অনুষ্ঠান করে। কিন্তু তা তো যথেষ্ট নয়। যথেষ্ট হতে পারেও না। হয়তো এক ঝলক প্রচ্ছদ এবং লেখককে দেখানো যায়। কিন্তু বইটি সম্পর্কে কি কোনো ধারণা দেবার অবকাশ পাওয়া যায়? যায় না। ফলে নির্দিষ্ট কিছু লেখকই পরিচিত হবার সুযোগ পান প্রতি বছর।
তাছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে বই বের করতে হবে, সেই তাগাদা থেকে শুরু হয় প্রেসকর্মী, কম্পোজিটর, প্রুফরিডার, প্রচ্ছদশিল্পী, বাঁধাইকরদের ওপর বাড়তি চাপ। ফলে বেশিরভাগ বইয়ের প্রকাশনাই মানসম্মত হতে পারে না। সম্পাদনার বালাই তো থাকেই না বলতে গেলে। ফলে বইতে থাকে মুদ্রণপ্রমাদ, বাক্যগঠনে ভুল এবং আরো অনেক বিরক্তিকর অনুষঙ্গ।
মেলা হোক। কিন্তু সব বই মেলাতেই প্রকাশ করতে হবে, এমন মানসিকতা দূর হোক। আরেকটি জিনিস খুব দৃষ্টিকটূ লাগে। দেখা যায়, পরিচিত কাউকে পেলেই লেখক-কবিরা তাদের বই গছিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন নির্লজ্জভাবে। এর নাম ‘পুশ সেলিং’। এটি পাঠকের জন্য যেমন অস্বস্তিকর, লেখকের জন্য তার চাইতে বেশি অবমাননার। নিজের আত্মসম্মানকে বিকিয়ে দেওয়ার সামিল।
যে জায়গাটি সবচেয়ে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন অহংকারী কবি-লেখকদের সমাবেশ হবার কথা, সেই লিটল ম্যাগাজিন কর্নারেই এই ‘গছিয়ে দেওয়া’র ব্যাপারটি বেশি ঘটে। সেই কারণে অনেক ভুক্তভোগী পাঠক লিটল ম্যাগাজিন কর্নার এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করেন।
শত শত মৌসুমী লেখকের আবির্ভাব বইমেলার নিয়মিত ঘটনা। এরা সবসময় টিভি আর পত্রিকার রিপোর্টারের সঙ্গে সেঁটে থাকার চেষ্টা করেন। তাদের মধ্যে জীবনের অন্য ক্ষেত্রে কৃতি, সফল এবং ধনাঢ্যরা মাসজুড়ে পত্রিকাতে-টেলিভিশনে নিজের বইয়ের বিজ্ঞাপন দিয়ে চোখ ধাঁধিয়ে দিতে পারেন অদীক্ষিত পাঠকের। তার বিজ্ঞাপন দেখে অনেক পাঠক কেনেন বই এবং মাথা নেড়ে বলতে থাকেন-- বাংলাদেশের সাহিত্যের মান এত নীচু!

লেখক :কথাসাহিত্যিক
মেলাতেই সব বই প্রকাশ করার প্রবণতা বন্ধ হোক মেলাতেই সব বই প্রকাশ করার প্রবণতা বন্ধ হোক Reviewed by Prothomkantho on 10:37 Rating: 5

মেলার আকর্ষণ ‘লেখক বলছি’

একুশে বইমেলায় নতুন আকর্ষণ হয়ে এসেছে ‘লেখক বলছি’ আয়োজনটি। নবীন প্রবীণ সব লেখকের কাছেই এ আয়োজনটি আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে এজন্য একটি দৃষ্টিনন্দন মঞ্চও সাজানো হয়েছে।
মঞ্চে নির্ধারিত কবি অথবা লেখক বসবেন। তার নতুন বই নিয়ে প্রশ্ন করবেন উপস্থাপক। একজন কবি বা লেখক নিজের লেখা সম্পর্কে, বই সম্পর্কে কথা বলবার জন্য সময় পবেন বিশ মিনিট।
প্রথম দিনেই শুরু হয়ে গেছে এ আয়োজনটি। দিন দিন বাড়ছে এর প্রতি লেখক পাঠকদের আগ্রহ। মেলায় ‘লেখক কুঞ্জ’ বেশ আগে থেকেই ছিল। কিন্তু সেটা লেখকদের আড্ডার জায়গা হিসেবে বিবেচিত হত। পরে এই লেখক কুঞ্জ লেখকদের কাছে গৌণ হয়ে পড়ে। কেননা, লেখক কুঞ্জ বানিয়ে দেয়া ছাড়া মেলা কর্তৃপক্ষের আর বিশেষ নজর ছিল না এর প্রতি।
‘লেখক বলছি’ চালু করবার পরে লেখক ও বই বাছাই করে দিচ্ছে মেলা কর্তৃপক্ষ। যেদিন লেখক কথা বলবেন তার আগের দিন তার বই জমা দিতে হবে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের কাছে। সেখান থেকে প্রতিদিন পাঁচজনকে নির্বাচন করে দেয়া হয়। তারাই পরে আলোচনায় অংশ নেন।
গতকাল সোমবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের লেক পাড়ে ‘লেখক বলছি’ কর্ণারের এ আয়োজনে সোমবার নিজেদের সাহিত্যকর্ম বিষয়ে আলাপনে অংশ নেন গিরিশ গৈরিক (বই: বৈঠকখানায় কবি), জাকির তালুকদার (বই: গল্পের জার্নাল), তিথি আফরোজ (বই: তিথির তিরিশ), নাসিমা আনিস (বই: বৃহন্নলা বৃত্তান্ত) এবং বিধান রিবেরু (বই: চলচ্চিত্র বোধিনী)। প্রত্যেকেই তাদের বইয়ের ওপর ২০ মিনিট কথা বলেন। এরপর চলে পাঠক প্রশ্নত্তোর পর্ব।


নিজের বই সম্পর্কে কবি তিথি আফরোজ জানান, আমি আমার লেখার মধ্য দিয়ে মূলত মানুষের সংকট, সংকীর্ণতা, বহুরূপী প্রবণতা তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি।
এ প্রসঙ্গে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন, এ আয়োজনটি আমরা বেশ আশাবাদী। ধীরে ধীরে এটি জনপ্রিয়তা পাবে বলে বিশ্বাস। তাছাড়া, মেলায় এসে পাঠকরা বই কেনার বিষয়ে একটা ধারা পাবেন।
বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্য মতে গতকাল মেলার চতুর্থ দিনে বই প্রকাশিত হয়েছে ১৪১টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো: গ্রন্থকুটির এনেছে মোহীত উল আলমের উপন্যাস ‘মুরলী’, জ্যোতি প্রকাশ এনেছে ড. তপন বাগচীর সমালোচনা গ্রন্থ ‘মহসিন হোসাইনের কবিতার বিষয় ও শরীরী নির্মণ’ হাওলাদার প্রকাশনী এনেছে নীরা কাদরীর আবৃত্তির বই ‘আবৃত্তির নির্বাচিত কবিতা’, পালক পাবলিশার্স এনেছে কাজী খলীকুজ্জামান আহমদের প্রবন্ধ ‘অবস্থা বদলের জন্য ব্যবস্থা বদলের সন্ধানে’, নাগরী এনেছে আবু হাসান শাহরিয়ারের কাব্যগ্রন্থ ‘বিমূর্ত প্রণয়কলা, অন্যপ্রকাশ এনেছে শিহাব শাহরিয়ারের কাব্যগ্রন্থ ‘পড়ে থাকে অহংকার, ইমদাদুল হক মিলনের গল্পের বই ‘ফেলে যাওয়া রুমালখানি, নাসরীন জাহানের উপন্যাস ‘সিসেমের দ্বিতীয় দরজা, পাঞ্জেরী এনেছে সাইফুল্লাহ মাহমদু দুলালের কবিতার বই ‘প্রেমের আগেই পড়েছি বিরহে’, নবযুগ প্রকাশনী এনেছে সনজীদা খাতুনের প্রবন্ধ ‘নজরুল মানস’, অনন্যা এনেছে কনক চাঁপার গল্পের বই ‘কাঁটাঘুড়ি-২. সৈয়দ শামসুল হকের কবিতার বই ‘নায়লন গোলাপ টেবিলে’ মোস্তফা মামুনের কিশোর উপন্যাস ‘রাজু ভাই-মাইনাস শেলী আপা’ ইত্যাদি।
এদিকে গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ওপর তিন গবেষকের গবেষণা প্রবন্ধ ‘মহানায়কের মহাকাব্য’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। বইটি পাওয়া যাবে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের স্টল নং-৪৯৬তে।
‘হাজার বছরের প্রতীক্ষিত স্বাধীনতা উপহার দিয়েছেন’ - তোফায়েল আহমদ
অমর একুশে গ্রন্থমেলার চতুর্থ দিন গতকাল বিকেলে মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সুভাষ সিংহ রায়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. নূহ-উল-আলম লেনিন। স্বাগত বক্তৃতা করেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন মাকিদ হায়দার এবং ইকবাল আজিজ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মাহমুদা আখতার। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফাতেমা-তুজ-জোহরা, খায়রুল আনাম শাকিল, ইয়াকুব আলী খান, লীনা তাপসী খান এবং ক্যামেলিয়া সিদ্দিকা।


মেলার আকর্ষণ ‘লেখক বলছি’ মেলার আকর্ষণ ‘লেখক বলছি’ Reviewed by Prothomkantho on 10:34 Rating: 5

ঝাড়ুদার পদে চাকুরীর জন্য আবেদন ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ-দের

ভারতে ঝাড়ুদার পদে চাকুরীর জন্য আবেদন করেছেন ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ ডিগ্রিধারীরা। এমনটি জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি।


এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে তামিলনাড়ু সংসদ সচিবালয়ে ঝাড়ুদার ও স্যানিটারি কর্মী পদে নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এতে ঝাড়ুদার পদে ১০ জন এবং স্যানিটারি কর্মী পদে ৪ জনের পোস্ট খালি ছিল।

খবরে বলা হয়েছে, এসব পদের জন্য আবেদন করেছে প্রায় ৪৬০৭জন। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ ডিগ্রিধারীরা। এছাড়াও অনেক স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ কারীরা আবেদন করেছে।

এসব পদের জন্য যোগ্যতা হিসেবে চাওয়া হয়েছিল শুধু শারীরিক সক্ষমতা। বয়স ধার্য করা হয়েছিল নূন্যতম ১৮ বছর।
ঝাড়ুদার পদে চাকুরীর জন্য আবেদন ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ-দের ঝাড়ুদার পদে চাকুরীর জন্য আবেদন ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ-দের Reviewed by Prothomkantho on 10:06 Rating: 5

‘ডিম বিক্রি শুরু করেছি, সার্টিফিকেটগুলো ফেলে দেবো

কিডনি রোগে আক্রান্ত সাগরের বাবাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হয়। মাসে মাসে স্কুলের ফি আসে ছোট ভাইবোনদের। দিতে হয় পড়াশোনার খরচ, পরিবার চালানোর খরচ। সবই আসে ডিমের ভ্যানগাড়ি থেকে। প্রতিদিন আয় প্রায় ৫০০ টাকা
বিষণ্ন মুখে ভ্যানগাড়িতে বসানো চুলায় ডিম সিদ্ধ করতে করতে আল-জাজিরার রিপোর্টারের সঙ্গে কথা বলছিলেন সাগর কুমার। দিল্লির কাছে একটি উপশহরের সড়কে প্রতিদিন ডিম বিক্রি করেন উত্তর প্রদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ পাশ করা এই যুবক। তিনি বেকারত্বের তাড়া খাওয়া ভারতের তিন কোটি ভাগ্য বিড়ম্বিত যুবকদের একজন।
সাগর বলেন, ‘সরকারি চাকরির জন্য অনেকগুলো ইন্টারভিউ দিয়েছি। কোনটাতেই হয়নি। এক বছর হলো ডিম বিক্রি শুরু করেছি। আরও কয়েকটি ইন্টারভিউয়ের ফলাফলেও চাকরি না হলে সার্টিফিকেটগুলো ফেলে দেবো। বিবিএ পাশ করে যদি রাস্তায় ডিম বিক্রি করতে হয়, তাহলে কী হবে ওসব ডিগ্রি দিয়ে?’

আল-জাজিরা জানায়, ভারতে বর্তমানে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হলেও বেকারত্বের হার গেলো ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মোদি ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাজেয়াপ্ত করার ধাক্কায় চাকরি হারান দেশটির প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ।

সম্প্রতি ভারতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ৬৩ হাজার ক্লিনার ও লাইন পরিচর্যাকারী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে আবেদন পড়ে এক কোটি ৯০ লাখ। ভারত সরকারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে মোট বেকার যুবকের সংখ্যা ৩ কোটি ১০ লাখ।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে তামিলনাড়ু সংসদ সচিবালয়ে ঝাড়ুদার ও স্যানিটারি কর্মী পদে নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এতে ঝাড়ুদার পদে ১০ জন এবং স্যানিটারি কর্মী পদে ৪ জনের পোস্ট খালি ছিল। কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা না চাইলেও সে পদে আবেদন করেন ইঞ্জিনিয়ার ও এমবিএ ডিগ্রিধারীরা।
/টিএস
‘ডিম বিক্রি শুরু করেছি, সার্টিফিকেটগুলো ফেলে দেবো ‘ডিম বিক্রি শুরু করেছি, সার্টিফিকেটগুলো ফেলে দেবো Reviewed by Prothomkantho on 10:02 Rating: 5

বিএনপির ভবিষ্যৎ অন্ধকার: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যে দলের নেতাদের ঝুঁকি নেওয়ার সাহস নেই, সে দলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যে দলের রাজনীতি যখন সংকটের মধ্যে থাকে, তখন ঝুঁকি নেওয়ার সাহস যে নেতাদের নেই, তারা কোনো দিনও দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন না।
বিএনপির আন্দোলনে মানুষের সমর্থন নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপির আন্দোলনের ইস্যু তামাদি হয়ে গেছে। তারা আন্দোলনের ডাক দিলেও জনগণ এখন সাড়া দেবে না।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি এখন দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের জন্য দেশ-বিদেশে ইমেজ সংকটে আছে। তাদের এখন প্রথম কাজ হচ্ছে, তাদের ইমেজ সংকট দূর করা।
বিএনপির ভবিষ্যৎ অন্ধকার: ওবায়দুল কাদের বিএনপির ভবিষ্যৎ অন্ধকার: ওবায়দুল কাদের Reviewed by Prothomkantho on 09:56 Rating: 5

ওবায়দুল কাদেরকে বিএনপিতে যোগ দেয়ার আহ্বান রিজভীর

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে বিএনপিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী



তিনি বলেন, কাদের সাহেব প্রতিনিয়ত বিএনপিকে উপদেশ দিচ্ছেন। সভা-সমিতি, মঞ্চ, গণমাধ্যম ও ব্রিফিংয়ে বিএনপির কি করা উচিৎ, বিএনপির পরিণতি কি হবে, বিএনপি নির্বাচন ভীতিতে ভুগছে, বিএনপি সংসদে যোগ দেবে ইত্যাদি নানা কথার খৈ ফুটাচ্ছেন প্রতিদিন। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের সাহেব শালীনতা, ভব্যতার গুণমান বিবেচনা না করে বিএনপির বিরুদ্ধে ক্রমাগত উপদেশের ভাঙ্গা টেপ রেকর্ড বাজিয়েই চলেছেন। ‘মিডনাইট ইলেকশন’ এর সরকারের মন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের সাহেব এখন স্বেচ্ছায় বিএনপির উপদেষ্টা হতে চলেছেন। সুতরাং খামোখা আওয়ামী লীগে থেকে তার লাভ কী, বরং ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বিএনপিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপির দরজা খোলা আছে

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরো বলেন, এমনিতেই অনাচারের পাহাড়সম স্তূপে আওয়ামী নেতাকর্মীরা ভীত সন্ত্রস্ত, কখন কী হয় আতঙ্কে তাদের সারাদিন কাটে। বিভিন্ন এলাকায় তারা তলেতলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা শুরু করেছে। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আওয়ামী নেতাকর্মীরা আসলেই উদ্বিগ্ন। ক্ষমতার বৃক্ষ উপড়ে যাওয়ার পর অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা গভীর দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সেজন্য স্বেচ্ছায় বিএনপির উপদেষ্টার আসনে বসতে চাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের সাহেবসহ অন্য নেতারা।
তিনি বলেন, বিএনপি সংসদে না গেলেও প্রতিনিয়ত বিএনপি ও জিয়া পরিবারকে নিয়ে সংসদে বিষোদগার করছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনে আওয়ামী লীগে বিজয় ছিল প্রত্যাশিত। ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে এবং জনগণ বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছে।’ এদেশে বাক-স্বাধীনতা শুধু একজনেরই আছে, তিনি হলেন ‘মিডনাইট ভোট’ এর প্রধানমন্ত্রীর। তিনি সবার বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে একাই লাগামহীন কথাবার্তা বলেন। বিরোধী দলকে কারাগারে ঢুকিয়ে নির্বাচনী ময়দান শূন্য করার পর বিজয় তো প্রত্যাশিত হবেই। রাতে ভোটারদের ঘুমানোর সময় প্রশাসন ও পুলিশ ব্যালট বাক্স পূর্ণ করলে সেই ভোট তো অবাধ ও সুষ্ঠু হয়ই, কারণ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অবাধে ব্যালট পেপারে সুষ্ঠুভাবে সিল মারতে পারে। ভোটের দিনের ভোট ‘আউট সোর্সিং’ করে আগের দিন রাতে ব্যালট বাক্স ভরে দিয়ে তো ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হবেই। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের লোকদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ভোটের আগের দিন রাতে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করলে ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু তো হবেই। তবে শেখ হাসিনা ও দলের নেতাকর্মী ছাড়া অন্য কেউ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলেনি। এমনকি মহাজোটের শরীকরাও এখন বলছে যে, ভোট হয়েছে আগের দিন রাতেই।
বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায় নেই, আছে স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদ চোখে পড়ে না প্রধানমন্ত্রীর। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের ময়দানে রক্তক্ষয়, নজীরবিহীন গ্রেফতার অভিযান ও সংসদীয় এলাকায় রক্তাক্ত হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থীদের বেশ কিছু সংখ্যককে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। স্বৈরতান্ত্রিক দমনের সকল শক্তি দিয়ে বিরোধী শক্তিকে অবরুদ্ধ করে এক অভিনব ‘মিডনাইট মহা ভোট ডাকাতির নির্বাচন’ এর পর সেই সরকারের মন্ত্রীরা তামাশার মঞ্চে কৌতুক প্রদর্শন করা ছাড়া আর কিইবা এই মূহুর্তে করতে পারে। কারণ ভোট ডাকাতির সফলতা ছাড়া চারিদিক থেকে তারা ব্যর্থ। পথের কাঁটা সরানোর জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে এক বছর ধরে কারাগারে আটকিয়ে রেখেছে। দাগী খুনিদের মুক্তি দিয়ে নির্দোষ ব্যক্তি জাহালমকে তারা জেল খাটায়। বাহুবলে বিরোধী শক্তিকে তারা নির্মূল করার চেষ্টায় লিপ্ত। জাতীয় থেকে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত দুর্নীতির বিস্তার, নারী-শিশু নির্যাতনের ভয়ঙ্কর প্রকোপ, সড়কে মৃত্যুর মিছিল, গুম ও খুনের ভয়াবহ আধিপত্য, মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণসহ দেশব্যাপী গণতন্ত্র এখন হাহাকার করছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নীতির প্রতি যারা অবাধ্য তাদের ঠিকানা হচ্ছে কারাগার।

রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও সারাদেশে বিএনপির বন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে আগামীকাল ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার বেলা ২-৩০টায় কেবলমাত্র ঢাকায় রমনাস্থ ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স-বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে। এছাড়া ৯ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী একই দাবিতে ঢাকা মহানগরী বাদে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপিকা শাহিদা রফিক, নাজমুল হক নান্নু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মো. মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


ওবায়দুল কাদেরকে বিএনপিতে যোগ দেয়ার আহ্বান রিজভীর ওবায়দুল কাদেরকে বিএনপিতে যোগ দেয়ার আহ্বান রিজভীর Reviewed by Prothomkantho on 09:53 Rating: 5

হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে আর শিক্ষকদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দুদক: হাইকোর্ট

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যকলাপে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেছেন, ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে আর শিক্ষকদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দুদক।
বৃহস্পতিবার কোচিং সেন্টার নিয়ে শুনানিকালে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ এ কথা বলেন।
আদালত বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বড় বড় রাঘববোয়ালদের ধরে এনে ছেড়ে দিয়ে স্কুলশিক্ষকদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দুদক।
যেখানে ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে, সেখানে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা স্কুলে যাচ্ছেন কি যাচ্ছেন না তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তারা।
দুদক দুর্নীতিবাজ রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না উল্লেখ করে আদালত বলেন, ছোট দুর্নীতির আগে বড় বড় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। তবেই দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হবে।
হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে আর শিক্ষকদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দুদক: হাইকোর্ট হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে আর শিক্ষকদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দুদক: হাইকোর্ট Reviewed by Prothomkantho on 01:57 Rating: 5
Powered by Blogger.